অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে পলিন হ্যানসনের মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যের জন্য নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে পলিন হ্যানসনের নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে পলিন হ্যানসনের মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যের জন্য নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে সোমবার (২ মার্চ) ডানপন্থি রাজনীতিক পলিন হ্যানসনের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। হ্যানসনের সম্প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে করা মন্তব্যকে আইনপ্রণেতারা 'প্ররোচনামূলক ও বিভাজক' বলে অভিহিত করেছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার মানুষের মূল্যবোধ ও মনোভাবকে প্রতিফলিত করে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হ্যানসনের বিতর্কিত মন্তব্য ও সিনেটের প্রতিক্রিয়া

পলিন হ্যানসন ফেব্রুয়ারি মাসে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'তারা পশ্চিমাদের ঘৃণা করে এবং মূলত সেটাই বিষয়। আপনি বলবেন ভালো মুসলমান আছেন, তবে আমাকে বলুন কীভাবে আপনি জানেন ভালো মুসলমান আছেন?' এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেটে লেবার সরকারের নেতা পেনি ওং হ্যানসনের বিরুদ্ধে নিন্দার প্রস্তাব আনেন।

প্রস্তাবে হ্যানসনের মন্তব্যকে মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের কলঙ্কিত করার চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি গ্রিনস পার্টি এবং দুজন কনজারভেটিভ সিনেটরের সমর্থন পেয়ে সফলভাবে পাস হয়েছে। পেনি ওং বলেন, 'এই নিন্দা প্রস্তাবের মাধ্যমে আমরা একটি সীমা টানছি এবং দেশবাসী ও শিশুদের কাছে বার্তা দিচ্ছি যে, নেতাদের পুরো একটি ধর্মকে দোষারোপ করে কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়।'

হ্যানসনের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক পটভূমি

হ্যানসন এই নিন্দা প্রস্তাবকে 'নাটক' হিসেবে আখ্যায়িত করে চেম্বার ছেড়ে চলে যান। কুইন্সল্যান্ডের এই রাজনীতিক ১৯৯০-এর দশকে এশিয়া থেকে আগত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী বিরোধিতার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন। গত নভেম্বর মাসে তিনি দু'বার সংসদে বোরকা পরেন, যেন মুসলিম পোশাক জনসমক্ষে পরিধান বন্ধ করার দাবি তোলা হয়।

সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, হ্যানসনের ওয়ান নেশন পার্টি কনজারভেটিভ বিরোধী জোটকে ছাড়িয়ে গেছে। তারা প্রাথমিক ভোটের ২৮% সমর্থন পাচ্ছে, যা অভিবাসন বিরোধী নীতির প্রতি বাড়তি সমর্থনকে নির্দেশ করছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিনেটের নিন্দা প্রস্তাবটি অস্ট্রেলিয়ার সমাজে সহিষ্ণুতা ও বহুত্ববাদের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।

এই ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যত নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।