কানাডার ইরান নীতি: সরকার পরিবর্তনের পক্ষে নতুন নিষেধাজ্ঞা, সম্পর্ক খোলার শর্ত
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ ইরানে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং এই লক্ষ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে মার্কিন সামরিক হামলার ক্ষেত্রে তারা সমর্থন জানাবে কি না, তা আনন্দ স্পষ্ট করেননি। শনিবার কানাডার সংবাদমাধ্যম গ্লোব অ্যান্ড মেইল এই খবর প্রকাশ করেছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক খোলার শর্ত
আনন্দ জার্মানিতে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানে সরকারের পরিবর্তন না হয়, কানাডা ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক খোলবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিষয়ে কোনও আপস নেই এবং কানাডার নীতি দৃঢ়ভাবে মানবাধিকার রক্ষার উপর ভিত্তি করে গঠিত।
নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ
আনন্দ আরও জানিয়েছেন, ইরানি সরকারের সঙ্গে যুক্ত সাতজনের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কানাডার লক্ষ্য হলো ইরানে মানবাধিকারের অব্যাহত নিপীড়ন রোধ করা এবং দায়িত্বশীল আচরণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতিহাস
উল্লেখ্য, কানাডা ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ২০১২ সালে কানাডা ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেয়। ২০২২ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কানাডা ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে রয়েছে:
- ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)
- গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা
- রাষ্ট্রচালিত প্রেস টিভি
- নৈতিকতা পুলিশ
- ২৫ ব্যক্তি ও ৯টি সংস্থা
এই পদক্ষেপগুলি ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কানাডার এই অবস্থান বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
