বিএনপির শপথে মোদি আসছেন না, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা হবেন ভারতের প্রতিনিধি
বিএনপির শপথে মোদি আসছেন না, ওম বিড়লা হবেন প্রতিনিধি

বিএনপির শপথ অনুষ্ঠানে মোদি আসছেন না, ওম বিড়লা হবেন ভারতের প্রতিনিধি

বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশ নিতে পারছেন না। তার পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে স্পিকারের উপস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওম বিড়লার অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও স্থায়ী বন্ধুত্বের ওপর জোর দেয়। এটি দুই দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের দৃঢ় অঙ্গীকারকেও পুনর্ব্যক্ত করে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, একটি অংশিদারত্বের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দ্বারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারে বাংলাদেশের উত্তরণকে স্বাগত জানায়। এই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবন্ধ জনগণের বিপুল সমর্থন পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোদি কেন আসতে পারছেন না?

বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে একই দিনে ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেওয়ার পূর্বনির্ধারিত সূচির কারণে তার পক্ষে ঢাকা সফর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে আয়োজিত এই সামিটে বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী নেতা অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ
  • ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভা
  • নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ
  • সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

প্রায় ২০ দেশের শীর্ষ নেতা এই সামিটে অংশ নেবেন। সামিটের ফাঁকে মোদি ও ম্যাখোঁর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে মোদি ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ওম বিড়লাকে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন।

শপথ অনুষ্ঠানের তাৎপর্য

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মজবুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টেকসই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।