বিএনপি সরকারের শপথে মোদির পরিবর্তে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসতে পারেন
বিএনপি সরকারের শপথে মোদির পরিবর্তে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি আসতে পারেন

বিএনপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ পেয়েছেন, কিন্তু আগে নির্ধারিত সূচির কারণে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মোদির পরিবর্তে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বলে জানা গেছে।

আমন্ত্রণ ও সূচি সংঘাত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র নরেন্দ্র মোদি গত শনিবার পেয়েছেন। তবে, একই সময়ে ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি দিল্লি ও মুম্বাইয়ে ইন্ডিয়া–এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে মোদি অংশ নেবেন। এই শীর্ষ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ ২০টি দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এই সংঘাতের কারণে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শপথ অনুষ্ঠানে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানা যাবে, যেহেতু রোববার ভারতে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল।

আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মোট ১৩টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। এই সিদ্ধান্তটি বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে, যেখানে শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে সময়গত সংঘাত দেখা দিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে উপরাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রতিনিধিত্ব বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সম্মান ও সমর্থনেরই ইঙ্গিত দেয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।