উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক সম্পন্ন, মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে
উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার শপথ

উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম বৈঠক সম্পন্ন, মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, কেননা নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত রয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তৃতায় বলেন, ‘‘উই আর লাকি পিপল, হু গট দ্য অপরচুনিটি টু সার্ভ দ্য নেশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ।’’ বিকালে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের বিস্তারিত পরিকল্পনা

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আগামী ১৭ তারিখে সকাল ১০টার দিকে এমপিদের শপথ হবে জাতীয় সংসদে। ওই দিন বিকাল চারটার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকামিং প্রাইম মিনিস্টার এবং তার কেবিনেটের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে। একই সময়ে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, ‘‘দক্ষিণ প্লাজায় এ ধরনের একটা অনুষ্ঠান এই প্রথম হচ্ছে। অনুষ্ঠানটা কিভাবে পরিচালিত হবে, এটা যাতে সুন্দরভাবে হয়, সেজন্য আজকে বিএনপির তিনজনের একটি কমিটির সঙ্গে মিটিং আছে। তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।’’

উপদেষ্টাদের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কেবিনেটের শেষ বক্তব্য রেখেছেন প্রধান উপদেষ্টা, যিনি তারপর কলিগদেরকে ধন্যবাদ দেন। উপদেষ্টাদের দেশ ছাড়ার খবর প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘‘ফয়েজ আহমেদ কেন পদ ছেড়েছেন, ফেসবুকে উনি ওনার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট এক্সপ্লেন করেছেন। আমার এখানে নতুন করে যুক্ত করার কিছু নেই।’’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আর উপদেষ্টাদের মধ্যে যারা শপথের দিন থাকবেন, তারা জয়েন করবেন। শপথের দিন তারা ফ্ল্যাগবাহী গাড়িতে যাবেন। যাওয়ার পরে যখন শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, ফেরার সময়ও ওই গাড়ি তাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেবে। কিন্তু তখন আর গাড়িতে ফ্ল্যাগ থাকবে না।’’

প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই মন্তব্যের মাধ্যমে উপদেষ্টাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন: ‘‘তারা সবাই দেশেই আছেন। তারা দেশের গর্বিত সন্তান। দেশকে আরও এগিয়ে নিতে— তারা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেবেন।’’

এই বৈঠকটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হতে চলেছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।