বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তারেকের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ: আসাদুজ্জামান ভুইয়া
বিএনপির নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তারেকের ভয়াবহ ভবিষ্যৎ: ভুইয়া

বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ ভবিষ্যৎ

বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আজ রোববার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুইয়া (ফুয়াদ)। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিএনপির যে নেতা-কর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

নির্বাচনী অনিয়ম ও প্রশাসনের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা

আসাদুজ্জামান ভুইয়া বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'চর দখলের মতো নির্বাচন করে যাঁরা ক্ষমতায় যাচ্ছেন, তাঁরা ’২৪-এর অভ্যুত্থান ভুলে যাবেন না।' তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আরও যোগ করেন, 'বিএনপি যদি তাদের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এই নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। শেখ হাসিনার চেয়েও খারাপ পতন হবে।'

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ভুইয়া বলেন, 'মাঠ প্রশাসনের একটি বড় অংশ নির্বাচনে কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছে।' তবে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর পেশাদার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তাদের যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। এ জন্য তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।'

বরিশাল-৩ আসনে ভোটের দিনের অনিয়মের বিস্তারিত বর্ণনা

বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন ধানের শীষ প্রতীকে ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, আসাদুজ্জামান ভুইয়া ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। নিজের আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'ভোটের দিন বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনবরত ফোন আসছিল—কেন্দ্র দখল, অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে সিল মারা, এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের খবর।'

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, 'আমরা সারা দিন বাবুগঞ্জে চর দখলের মতো ভোটকেন্দ্রের দখল ফেরাতে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মুলাদী উপজেলার দিকে নজর দিতে পারিনি। মুলাদী উপজেলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহজে পৌঁছাতে পারে না। ফলে মুলাদীর কেন্দ্রগুলোতে ব্যালটে সিল মারলেও আমাদের এজেন্টরা ভয়ে তখন ফোন করেননি। ভোট শেষে সন্ধ্যা ছয়টার পর নিরাপদে গিয়ে আমাদের ফোন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন।'

চর দখলের নাটক ও কারচুপির প্রমাণ প্রদর্শন

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের ছবি প্রদর্শন করে আসাদুজ্জামান ভুইয়া বলেন, 'এগুলো দেখলেই বোঝা যাবে কীভাবে ভোটের দিন চর দখলের নাটক হয়েছে। এ ধরনের চর দখল ও জালিয়াতির নির্বাচন হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। আমরা দেখেছি, গণভোটের চেয়ে এমপি ভোট বেশি পড়েছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয়, এখানে বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে।'

তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন।