বিএনপি নেতার ওএমএস ডিলারদের প্রতি নির্দেশনা: বিএনপির লোকদের প্রাধান্য দিতে বলার অভিযোগ
বিএনপি নেতার ওএমএস ডিলারদের প্রতি নির্দেশনা: বিএনপির লোকদের প্রাধান্য দিতে বলার অভিযোগ

বিএনপি নেতার ওএমএস ডিলারদের প্রতি নির্দেশনা: বিএনপির লোকদের প্রাধান্য দিতে বলার অভিযোগ

বরগুনার আমতলী উপজেলায় বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকিরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তিনি ওএমএস (খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি) ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং বিএনপির লোকদের প্রাধান্য দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভিডিওতে কী দেখা গেছে?

১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে জালাল উদ্দিন ফকিরকে ওএমএস ডিলারদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি ১৫ বছরে খাইতে পারে নাই। যাঁরা ১৫ বছরে খাইতে পারে নাই হেগো নাম দিয়েন। আর যাঁরা খাইছে হেগো কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে দিয়েন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের ডিলারদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে।

জালাল উদ্দিন ফকিরের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল উদ্দিন ফকির প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আসল না। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। ভিডিওটি প্রযুক্তি দিয়ে বানানো। এ ছাড়া ভিডিওটি একটি ভুয়া আইডি দিয়ে ছাড়া হয়েছে। আমি কোনো ডিলারদের সঙ্গে এমন কথা বলিনি।’ তিনি ভিডিওটির সত্যতা অস্বীকার করে এটিকে প্রযুক্তিগতভাবে তৈরি বলে দাবি করেছেন।

বিএনপির অবস্থান

বিষয়টি নিয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভিডিওর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তবে জালাল উদ্দিন ফকিরের দলে কোনো পদ-পদবি নেই। কোন প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

পূর্বের ঘটনা

উল্লেখ্য, জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি অডিও ভাইরাল হয়, যাতে তিনি এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাজ করার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফেরত দেওয়া হয়।

এই ঘটনাটি আমতলী উপজেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ওএমএস কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।