ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের ইফতার মাহফিল নিয়ে উত্তেজনা, প্রশাসন জারি করল ১৪৪ ধারা
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় একই স্থানে বিএনপির দুইটি পৃথক গ্রুপ ইফতার মাহফিল আয়োজনের চেষ্টা করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ওই সময়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনার কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার নলডাঙ্গা সড়কের লাটা স্ট্যান্ডের পেছনের মাঠে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এবং সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করার পরিকল্পনা করেন। এই কর্মসূচির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হলে প্রশাসন প্রথমে মৌখিকভাবে অনুমতি প্রদান করে।
তবে একই সময়ে এবং একই স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের পক্ষ থেকেও ইফতার মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। দুই পক্ষই নির্ধারিত স্থান ও সময় পরিবর্তনে অনড় থাকায় এলাকায় মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা ও সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজেওয়ানা নাহিদ জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রোববার সকাল থেকে পৌর এলাকার নলডাঙ্গা সড়কের লাটা স্ট্যান্ডের পেছনের মাঠে সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তবে অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, যা এই ইফতার মাহফিলের ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যদি প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করত, তবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারত।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনবোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।



