জামায়াত আমিরের তীব্র ভাষায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলের আমির শফিকুর রহমান বিএনপি সরকারের উদ্দেশে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি জাতীয় স্বার্থে কাউকে ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
গণভোট বাস্তবায়নে বিএনপির দ্বিচারিতা
শফিকুর রহমান বলেন, 'আপনি (বিএনপি) সংবিধানের এক অংশ মানবেন, আরেক অংশ মানেন না। ভারি মজা। একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দুইটা ভোট একই দিনে হয়েছে। আপনি গোশত মানেন, কিন্তু ঝোল খাইতে রাজি না। একই তরকারি, একই বাসনে পাকানো হয়েছে। গোশতটা খেয়ে নিলেন, বলতেছেন ঝোলটা হারাম।' তিনি আরও যোগ করেন, জনগণকে বোকা মনে করার কারণ নেই, তারা সব বুঝে। বিএনপি সহজে মানবে না, কিন্তু অতীতে যেমন কিছু বিষয় পরে মেনেছে, এবারও মেনে নেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধানবিরোধী প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভিযোগ
জামায়াত আমির পরিবর্তিত বাংলাদেশে শাসক বদলালেও শোষণের ধারা বদলায়নি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'সব কষ্ট চেপে আমরা বলেছি, আমাদের দেশটা গণতান্ত্রিক ট্রেন হিসেবে রেললাইনের ওপরে উঠুক, চলুক, সামনের দিকে চলুক। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। তো উঠাইয়া দিলাম। এই উঠায়ে দেওয়ার পরে এখানে প্রশাসক, ওখানে প্রশাসক। এটা কী? এটা তো সংবিধানবিরোধী। পরিষ্কার।' বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রশাসক নিয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জনগণের ভোটকে অপমানের সতর্কবার্তা
গণভোট নিয়ে বিএনপির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, 'এখন একবার ওনারা বলেন যে, আমরা অক্ষরে অক্ষরে মানব। আবার বলেন, জনগণ না বুঝে রায় দিয়ে দিছে। আরে ভাই! জনগণ বুঝুক না বুঝুক, ভোটের অধিকারটা তার, আপনার না।' তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের ভোটকে অস্বীকার বা অপমান করলে দেশবাসীকে অপমানের খেসারত গোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যারা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ হটানোর পথ চিনেছে, তাদের আর দমানো যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান দুর্নীতির সমালোচনা
শফিকুর রহমান একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হওয়ার পেছনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর জনরায় অগ্রাহ্য ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন সত্ত্বেও মানুষের আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখা যায়নি, ফলে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তবে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বদলে যাওয়া উচিত ছিল, যা হয়নি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, 'বোতল পরিবর্তন হলেও ভেতরের জিনিস পরিবর্তন হয়নি। এই পরিবর্তন না হওয়ার কারণ নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ, অদূরদর্শিতা ও সীমাহীন দুর্নীতি।' শুধু টাকা হাতানোই নয়, মানুষের অধিকার হরণ ও অযোগ্যদের যোগ্য স্থানে বসানোকে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। দুর্নীতির বিষবাষ্প না গেলে সমাজ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
আলোচনা সভার অন্যান্য বক্তারা
সভায় সভাপতিত্ব ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান, মোবারক হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য জসীমউদ্দিন সরকার, হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য কামাল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।
সভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে, এরপর 'এই দেশ আমার বাংলাদেশ' শীর্ষক দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে মহানগর শিল্পীগোষ্ঠী।



