ফরিদপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের ঘটনা
ফরিদপুর শহরের থানা রোডে অবস্থিত একটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে চকবাজার মোড়সংলগ্ন পৌর মার্কেট ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। যুবলীগ ও বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের বিবরণ ও অংশগ্রহণকারী
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কার্যালয়ের পাশাপাশি থাকা তিনটি স্ট্যান্ডের মাঝের দুটিতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা টাঙানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পরিবেশকে উদ্দীপিত করেন। অনুষ্ঠানে ফরিদপুর শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি কাওসার আকন্দ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমদ এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি দেবাশীষ নয়নসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেবাশীষ নয়ন জানান, যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মজিবর রহমান (নিক্সন চৌধুরী) এর নির্দেশনা এবং আসিবুর রহমান ও কাওসার আকন্দের নেতৃত্বে এই দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি আমাদের দলীয় ঐতিহ্য ও জাতীয় চেতনার প্রকাশ।”
কার্যালয়ের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে থানা রোডের এই কার্যালয়টি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ২০২২ সালে শহরের আলীপুর মহল্লায় হাসিবুল হাসান সড়কে জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। এরপর থানা রোডের কার্যালয়টি শহর আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের সময় হাসিবুল হাসান সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই স্থানে সরকারি উদ্যোগে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ স্থাপন করা হয়েছে। এই পটভূমিতে থানা রোডের কার্যালয়টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই কার্যালয়টি এখনও দলীয় কর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও নেতা-কর্মীরা তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই ঘটনায় ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু মহল এটিকে দলীয় সংহতির প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এ ধরনের কর্মসূচি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে আইনগত দিক বিবেচনা করা উচিত।”
ফরিদপুর সদর উপজেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানটি আওয়ামী লীগের স্থানীয় শাখার সাংগঠনিক শক্তির একটি সংকেত। তারা বলছেন, “নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া দেখায় যে স্থানীয় পর্যায়ে দলের ভিত্তি মজবুত রয়েছে।”
এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী এই ঘটনা সম্পর্কে সচেতন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
