তারাকান্দায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উত্তাল বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা কার্যালয়টিতে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আগুন দেওয়া ও দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ
বিক্ষোভের সময় পোড়া কার্যালয়টির ভেতরে টায়ার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং দেয়ালের ইট ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একই দিন সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীরা পুড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা টানিয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টার দিকে ১০ সদস্যের একটি দল তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শহীদ মিনারের সামনে ভাঙা-পোড়া কার্যালয়ে ঢুকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়। পাশাপাশি ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত কার্যালয়ে উত্তেজনা
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের তিনতলাবিশিষ্ট কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার সেই কার্যালয়ে ঢুকে কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেন কয়েকজন, তবে তারা দ্রুত বক্তব্য দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও এনসিপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। রাত ৮টার দিকে তারা কার্যালয়টির ভেতরে গিয়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা পরে তারাকান্দা থানায় গিয়ে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
সংগঠন ও পুলিশের বক্তব্য
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে দেখে আমরা সেখানে গিয়ে স্টিকারগুলো ছিঁড়ে আগুন দিয়েছি, দেয়াল ভেঙেছি। কার্যালয়টির একটি গেট ছিল সেখানেও তালা দিয়েছি। আমরা থানায় গিয়ে পুলিশকে বলেছি, নিষিদ্ধ সংগঠনের যারা আছে তাদের যেন গ্রেফতার করা হয়।”
তারাকান্দা থানার ওসি তানভীর আহমেদ বলেন, “রাতে আগুন দিলেও সেটি নিজে থেকেই নিভে গেছে। টায়ার যতক্ষণ জ্বলেছে ততক্ষণ আগুন ছিল। তার জন্য কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, ফায়ার সার্ভিসও লাগেনি। আওয়ামী লীগ কোনও কার্যক্রম করতে পারবে না, এখানে কোনও ফ্যাসিস্ট দাঁড়াতে পারবে না।”
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
