তারাকান্দায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ
তারাকান্দায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ

তারাকান্দায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকার পরিত্যক্ত ওই কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভের সময় কার্যালয়ের ভেতরে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেওয়া এবং দেয়ালের ইট ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পোড়া কার্যালয়ে গিয়ে ব্যানার টানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন নিষিদ্ধ দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে রাতে তারা সেখানে গিয়ে জোরালো বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস, এনসিপির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য মাসুদ রানা, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব তৌহিদ আহমেদসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। আল নূর আয়াস বলেন, "আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে—এ খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে ব্যানার-স্টিকার অপসারণ করি, টায়ারে আগুন দিই এবং গেটে তালা লাগাই।" পরে তারা থানায় গিয়ে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

কার্যালয়ের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জনতা কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এবারের ঘটনায় টায়ার জ্বালানোয় কিছু সময় আগুন থাকলেও তা নিজে থেকেই নিভে যায় বলে জানিয়েছেন তানভীর আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তারাকান্দা থানা।

তিনি আরও বলেন, "এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজন পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।" স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে তৎপরতা জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে নজর রাখছেন।