দেশের স্বার্থে কাজ করলে সরকারকে সমর্থন দেবে জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার বলেছেন, নতুন সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থে উদ্যোগ নিলে তার দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। তবে সরকার জনস্বার্থবিরোধী কাজ করলে তারা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. শফিকুর রহমান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থে উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করব। কিন্তু তারা যদি জনস্বার্থবিরোধী কাজ করে, তাহলে আমরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ নতুন প্রশাসনে যোগদান করাটা অন্যায়। তিনি বলেন, "এটা অবিচার যখন অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ নতুন প্রশাসনে অংশ নেয়।"
জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
জুলাইয়ের শহীদদের প্রতিফলন করে ড. শফিকুর বলেন, "আমরা জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারিনি। আমরা ক্ষমতাসীন দলের অংশ হতে পারিনি, কিন্তু আমরা এটা নিয়ে আফসোস করি না। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উদযাপন নির্বাচনের সঙ্গে মিশে গেছে, এবং জনগণ পুরোপুরি তাদের ম্যান্ডেট প্রয়োগ করতে পারেনি।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের ম্যান্ডেটকে সম্মান করেছি। সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের শপথ নিতে অস্বীকার করা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়। এটি সংস্কারের বিরুদ্ধে। বিএনপি যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে, তাহলে তারা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের শপথ নেবে। কেউ জুলাইকে অসম্মান করে সংসদের মর্যাদাপূর্ণ আসনে বসতে পারে না।"
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় জামায়াত
ড. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত চায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হোক, যাতে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ বোধ করে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়। তিনি বলেন, "নির্বাচন রাত থেকে, আমাদের ভোট দেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকায় নারী-পুরুষের উপর হামলা হয়েছে। আমরা চাই এটি বন্ধ হোক। সরকার যেখানেই গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে, সেখানেই সমর্থন পাবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, "আমরা চাই দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক, এবং সরকারের সকল কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হোক।"
ড. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যেখানে দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
