নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকিরকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। মঙ্গলবার দুপুরে ইটাখোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি
হেদায়েত আলী শাহ ফকির কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীলফামারী জেলা পর্যায়ের নেতা এবং জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। একাধিক হত্যা ও নাশকতা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি ও অন্যান্য ঘটনা
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, হেদায়েত আলী শাহ ফকির ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে বছরের পর বছর জেল, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়, ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায়ও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। ৫ আগস্ট পতিত স্বৈরাচার দেশত্যাগের পর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরসহ একাধিক আওয়ামী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়।
মামলার তালিকা
হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলাসমূহ হলো:
- রামগঞ্জ ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা মামলা
- ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা
- ৪ আগস্ট জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আইনি ব্যবস্থা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যান্য সহিংসতা ও নাশকতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে আদালতে হাজির করে জেলহাজতে পাঠানো হবে। এই গ্রেফতার স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
