বরিশালে আওয়ামী লীগ অফিসে ব্যানার-পতাকা টাঙিয়ে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক ফেরার চেষ্টা
গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ১৮ মাস পর বরিশালে আওয়ামী লীগের অফিসে দলীয় ব্যানার ও জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর বিবির পুকুরপাড়ে জনতার পুড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এই ব্যানার ও পতাকা লাগানো হয়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে ধরা পড়া ঘটনার বিবরণ
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একটি বিশাল আকারের ব্যানার টাঙানো হচ্ছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খানের অনুসারীরা এই ব্যানার ও পতাকা টাঙিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ব্যানারে লেখা ছিল 'শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে'। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'আজকে শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। তবে শুনেছি পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সদস্যরা একটি ব্যানার টাঙিয়ে ২-৩ মিনিটের একটি ভিডিও বানিয়ে আবার তারাই খুলে নিয়ে গেছে। এভাবে ২-৩ মিনিটের ব্যানার টাঙিয়ে তো রাজনীতিতে ফেরা যায় না। আওয়ামী লীগ এ দেশের রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে।' তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা প্রকাশ করছে।
পুলিশের কোনো মন্তব্য নেই
ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা তদন্তের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। এই নীরবতা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আরও বেশি কৌতূহল ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঢেউ
ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন। অনেকে এটিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে প্রতীকী কর্মকাণ্ড বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এই আলোচনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
