আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকারের আদালতে আসামি আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়ার (১৯) উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
কিশোরের সাজা ও বিচারিক প্রক্রিয়া
এই মামলার অপর আসামি দশম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এল বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদের আদালতে রায় দেওয়া হয়। আদালত অভিযুক্ত কিশোরকে একটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অন্য একটি ধারায় আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তা কার্যকর হবে।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হলো।’
আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মকবুল হোসেন সরকার। তিনি বলেন, আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। আসামিরা ঘটনার পর তাঁদের প্রদত্ত জবানবন্দি বিজ্ঞ আদালতে রিট্রেকশন (প্রত্যাহার) করে বলেছেন, পুলিশ তাঁদের জোর করে টর্চার করে জবানবন্দি আদায় করেছিল। সে জন্য জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ যদিও ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। একমাত্র ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ছাড়া ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় অন্য কারও সাক্ষী উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
ঘটনার বিবরণ ও তদন্ত
সূত্রে জানা যায়, ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ৫০০ গজ দূরে কংস নদের বাঁকে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করলেও সন্দেহভাজন চার তরুণের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষে ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং আসামিপক্ষে চারজন সাফাই সাক্ষী দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিক্রিয়া
মামলার রায়ের সময় নিহত শিশুর বাবা-মা দুজনেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শিশুটির বাবা-মা বলেন, দ্রুত রায় হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রতি সন্তুষ্ট। তাঁরা দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনার পর আমরা দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিই। দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।’



