ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। আবহাওয়া বদলালেই ত্বক শুষ্ক, কালচে বা নিস্তেজ হয়ে পড়ে, এমনকি ব্র্যান্ডেড স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বক সুস্থ রাখতে ডিহাইড্রেটেড হতে দেওয়া চলবে না, তবে গাদা গাদা ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম মেখে নেওয়াই সমাধান নয়।
হাইড্রেশন ও ময়েশ্চারাইজেশনের পার্থক্য
অনেকেই ‘ময়েশ্চারাইজেশন’ ও ‘হাইড্রেশন’-এর মধ্যে আসল পার্থক্যটা বোঝেন না। ত্বকের যত্নে এ দুটির গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। হাইড্রেশন ত্বকের কোষের ভেতরে পানির পরিমাণ বজায় রাখে, যা ত্বককে ভেতর থেকে নরম ও বাউন্সি করে তোলে। অন্যদিকে, ময়েশ্চারাইজেশন ত্বকের উপরিভাগে একটি স্তর তৈরি করে ভেতরে থাকা পানি বা আর্দ্রতাকে লক করে রাখে।
তৈলাক্ত ত্বকেও হাইড্রেশন প্রয়োজন
অনেকেই ভাবেন তৈলাক্ত ত্বকে হাইড্রেশনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সত্যিটা হলো—অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকও ভেতর থেকে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। আর ত্বক ডিহাইড্রেটেড হলেই তা নিষ্প্রাণ ও অনুজ্জ্বল দেখায়।
ত্বকের বাধা ক্ষতিগ্রস্ত হয় দূষণে
প্রায় সারা বছরই মাত্রাতিরিক্ত দূষণ ও আর্দ্রতার হেরফের এবং তীব্র গরমের সম্মুখীন হতে হয়। ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকায় তা রোদ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও, ত্বক যদি ডিহাইড্রেটেড বা স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে খুব দ্রুত পিগমেন্টেশন ও কালচে দাগছোপ দেখা দেয়।
ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বক ভালো রাখার টিপস
চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বক ভালো রাখতে কয়েকটি সহজ টিপস—
- ভারি ক্রিমের বদলে এমন জেল বেছে নিন যাতে অ্যালোভেরা রয়েছে। অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে পানিতে ভরপুর এবং এটি ত্বককে ঠান্ডা ও শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
- ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা কড়া ফেসওয়াশ ছেড়ে মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয় না।
- স্কিন ব্যারিয়ার ভালো থাকলে ত্বক বাইরের ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তাই মাল্টিপল প্রোডাক্টের লেয়ারিং না করে কম প্রোডাক্টে মিনিমালিস্টিক স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলুন।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া এবং ৭-৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে জেল্লাদার করে তোলে।



