প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৃহস্পতিবার সংসদে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ায় চাকরির চুক্তিতে পাঠানো চার বাংলাদেশি শ্রমিক যুদ্ধ-সংক্রান্ত কাজে বাধ্য হয়ে মারা গেছেন।
ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশির প্রত্যাবর্তন
মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান থেকে ১২ নারী ও ৮ শিশুসহ ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তায় এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে।
তিনি সংসদে বনাম সংরক্ষিত আসনের বিএনপি সদস্য নিলুফার চৌধুরী মণির প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন।
দেশভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে পাঁচজন, সৌদি আরবে তিনজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুজন এবং ইরাক ও বাহরাইনে একজন করে বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজনের দাফন মৃত্যুর দেশে করা হয়েছে, বাকি নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
আরিফুল বলেন, যাদের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে তাদের পরিবারকে বিমানবন্দরে দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত বিশেষ অনুদান ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ায় চাকরির নামে যুদ্ধে মৃত্যু
মন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, চাকরির চুক্তিতে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে চারজন যুদ্ধ-সংক্রান্ত কাজে বাধ্য হয়ে মারা গেছেন। এরা ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ ম্যানপাওয়ার, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে রাশিয়া গিয়েছিলেন।
শ্রমিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর খবর পাওয়ার পর ১৫ জুন মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় সরকার। আরিফুল বলেন, রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে বাকি শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো পুনরায় শুরু
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এপ্রিলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা তারিক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন এবং আগামী মাসে একটি মালয়েশিয়ান প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে শিগগিরই বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে।
বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থান বাজার
আরিফুল আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিবেচনায় সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বাজার বৈচিত্র্যকরণে কাজ করছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে শ্রমিক নিয়োগ চুক্তির খসড়া ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশের বিদেশস্থ মিশনগুলোকে তাদের নিজ নিজ অবস্থানের শ্রম চাহিদা মূল্যায়ন করে ম্যানপাওয়ার রপ্তানি বাড়াতে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ৩০ জুন, ২০২৪ পর্যন্ত ১ কোটি ৯ লাখ ১৮ হাজার ৯ জন বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। তবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশে ফিরে এসেছেন, এবং ফেরত আসা শ্রমিকদের ব্যাপক ডাটাবেজ না থাকায় বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব নয়।
এই সমস্যা সমাধানে বিএমইটি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যা ফেরত আসা শ্রমিকদের তথ্য বিনিময়ে সহায়তা করবে।



