শরিফ ওসমান হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি
শরিফ ওসমান হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছানো

শরিফ ওসমান হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই তারিখ নির্ধারণ করেন। রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা এই মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন আগে আজ ধার্য ছিল, কিন্তু তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত তারিখ পিছিয়ে নতুন তারিখ ধার্য করেন।

তদন্তে বিলম্ব ও আদালতের নির্দেশ

এই নিয়ে সিআইডি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতবার সময় পেয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "সিআইডি প্রতিবেদন দাখিলে বারবার বিলম্বের কারণে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে।" শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবং গত ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়।

ঘটনার ক্রম ও মামলার বিবর্তন

গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন, যা হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

বাদীর নারাজি ও অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

তবে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি ডিবির দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন, যা তদন্তের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন এবং ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে কয়েক দফায় সময় নেওয়ার পর আজ আবারও তারিখ পেছানো হলো, যা বিচার প্রক্রিয়ায় আরও বিলম্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।