সকালে ফোন চেকের অভ্যাসে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি
সকালে ফোন চেকের অভ্যাসে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি

একটা সময় ছিল যখন মানুষের সকাল শুরু হতো ধীরস্থিরভাবে, একান্ত নিজের মতো করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষের দিন শুরু হয় বিছানা ছাড়ার আগেই। বালিশের পাশে থাকা ফোনটি হাতে নেওয়া, নোটিফিকেশন চেক করা আর মেসেজের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই দিনের সূচনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘৬ এএম ফোন রুল’—যা নিঃশব্দে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ধরণ বদলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞের মতামত

এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল ডিটক্স ডে-র প্রতিষ্ঠাতা ড. রেখা চৌধুরী বলেন, ‘দিনের প্রথম এক ঘণ্টা কেবল আপনার রুটিন ঠিক করে দেয় না, এটি আপনার মস্তিষ্কের মেজাজ বা টোন সেট করে দেয়।’

কেন এই অভ্যাসটি আশঙ্কাজনক?

সকালে ফোন চেক করাকে আপাতদৃষ্টিতে উৎপাদনশীল মনে হতে পারে। মনে হতে পারে আপনি দ্রুত খবরাখবর নিচ্ছেন বা কাজের উত্তর দিচ্ছেন। কিন্তু ড. চৌধুরীর মতে, ‘যখন আপনি স্ক্রিন দিয়ে দিন শুরু করেন, আপনার মস্তিষ্ক শান্ত থাকার বদলে তৎক্ষণাৎ ‘রিঅ্যাক্টিভ’ বা প্রতিক্রিয়াশীল মোডে চলে যায়।’ অর্থাৎ আপনার নিজের চিন্তার বদলে বাইরের তথ্য বা ইনপুট আপনার মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

এই অভ্যাসের প্রভাব তাৎক্ষণিক বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে তা প্রকট হয়। অনেক সময় বিছানা থেকে ওঠার আগেই মানুষ এক ধরণের মানসিক চাপ বা অস্থিরতা অনুভব করে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে তা হলো:

  • মানসিক ক্লান্তি: খুব দ্রুত মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়া।
  • মনোযোগের অভাব: সারাদিন কোনো একটি কাজে স্থির থাকতে না পারা।
  • খিটখিটে মেজাজ ও উদ্বেগ: ছোটখাটো বিষয়ে বিরক্তি আসা।

ড. চৌধুরী উল্লেখ করেন, এই অবস্থায় আমরা শরীরের প্রাকৃতিক সংকেত যেমন—বিশ্রামের প্রয়োজন বা স্বাভাবিক নড়াচড়াকে উপেক্ষা করতে শুরু করি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিন্ন মতামত

সব থেরাপিস্ট অবশ্য একে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখেন না। কেউ কেউ মনে করেন, সকালে ফোন চেক করলে অনেকের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের বোধ তৈরি হয় যা তাদের দিনের জন্য প্রস্তুত করে। তবে মূল দুশ্চিন্তার জায়গাটি ফোন নয়, বরং এর সময়। একবার মস্তিষ্ক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করলে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সমাধানের পথ

ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের জন্য সকালের সময়টি ছিল নীরবতার—তা সে ব্যায়াম, ধ্যান বা কেবল চুপচাপ বসে থাকা যাই হোক না কেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বাইরের কোলাহল প্রবেশের আগে মস্তিষ্ককে কিছুটা নিজস্ব জায়গা দেওয়া। সমসাময়িক এই জটিলতা নিরসনে ডিজিটাল ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞরা একটি সহজ পরিবর্তনের পরামর্শ দেন- ঘুম থেকে ওঠার অন্তত এক ঘণ্টা পর ফোন স্পর্শ করুন। এতে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে জাগ্রত হওয়ার সুযোগ পায়। এটি কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার কমানো নয়, বরং নিজের দিনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার একটি অন্যতম কৌশল।

প্রশ্নটি কেবল সকালে ফোন ব্যবহারের নয়; প্রশ্নটি হলো—আপনার দিনটি কি আপনার শর্তে শুরু হবে, নাকি অন্য কারো দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে?