চুল পড়া বন্ধের সহজ উপায় জানালেন তাসনিম জারা
চুল পড়া বন্ধের ১০টি খাবার ও যত্নের টিপস

দিন দিন চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা চুল ঘন, কালো ও মজবুত করতে সাহায্য করে এমন ১০টি খাবারের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি চুলের যত্নে কিছু সাধারণ ভুল এড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

চুল পড়া বন্ধে ১০টি খাবার

ডা. তাসনিম জারা বলেন, কিছু খাবার নিয়মিত খেলে চুল পড়া সহজেই বন্ধ করা সম্ভব। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো:

১. বাদাম

চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম ও ওয়ালনাটে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, বিশেষ করে ওমেগা-৬ ফ্যাট। এটি চুলের গোড়া সতেজ রাখে এবং চুল লম্বা হতে সাহায্য করে। শরীর নিজে থেকে ওমেগা-৬ ফ্যাট তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকে নিতে হয়। এর অভাবে চুল পড়ে যায় এবং চুলের রং হালকা হয়ে যায়। প্রতিদিনের নাস্তায় কিছু বাদাম রাখা ভালো, তবে অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২. হলুদ ও কমলা রঙের সবজি ও ফলমূল

মিষ্টি আলু, গাজর, আম, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া—এগুলো ভিটামিন এ-তে ভরপুর। ভিটামিন এ চুলের ফলিকল বা চুলের গোড়া ঠিকমতো কাজ করতে সাহায্য করে। আধা কাপ গাজরেই দৈনিক ভিটামিন এ চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ হয়। তাই প্রতিদিন হলুদ ও কমলা রঙের ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

৩. তৈলাক্ত মাছ

অনেকের ধারণা ওমেগা-৩ ফ্যাটের জন্য শুধু সামুদ্রিক মাছ যেমন টুনা, স্যালমন খেতে হবে। তবে দেশি মাছ ইলিশ, কৈ, মলাতেও ওমেগা-৩ ফ্যাট আছে। এগুলো চুল ঘন ও কালো করতে সাহায্য করে এবং প্রোটিনের ভালো উৎস।

৪. ডিম

চুল প্রায় পুরোটাই প্রোটিনের তৈরি। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারে প্রোটিনের অভাব হলে চুল পড়ে যায়। ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি বায়োটিন, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি-১২ থাকে, যা চুল ঘন, কালো ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

৫. পালং শাক

পালং শাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও আয়রন রয়েছে, যা ঘন কালো চুলের জন্য প্রয়োজনীয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৬. ডাল

ডালে প্রোটিন ও আয়রন ভালো পরিমাণে থাকে। আয়রন মাথার তালুতে রক্ত সরবরাহ করে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। আয়রনের অভাবে চুল পড়ে। ঘন করে রান্না ডাল খেলে জিঙ্ক ও ফলেটের মতো পুষ্টিও বেশি পাওয়া যায়।

৭. বিভিন্ন ধরনের বীজ

চিয়া সিড, মিষ্টিকুমড়ার বিচি, সূর্যমুখীর বিচি, তিসির বীজ—এগুলোতে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে। চিয়া সিডসে আলফা-লিনোলিনিক অ্যাসিড (ওমেগা-৩), মিষ্টিকুমড়ার বিচিতে জিঙ্ক, সূর্যমুখীর বিচিতে বায়োটিন, তিসির বীজে সেলেনিয়াম থাকে। গবেষণায় চুল পড়ার সাথে এগুলোর অভাবের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

৮. ছোলা

ছোলায় আয়রন, জিঙ্ক ও প্রোটিন থাকে, যার অভাবে চুল পড়তে পারে।

৯. টক দই

টক দই প্রোটিন ও জিঙ্কের ভালো উৎস। প্রোটিনের জন্য মুরগির মাংসও খাওয়া যেতে পারে।

১০. টক ফল

কমলা, মাল্টা, লেবু, কিউয়ি ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি-এর অভাবে চুল বেঁকিয়ে পেঁচিয়ে যায় (কর্কস্ক্রু হেয়ার) এবং আয়রন শোষণ ব্যাহত হয়, ফলে চুল পড়ে। একটি কমলা থেকে দৈনিক ভিটামিন সি-এর প্রায় ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়। যারা টক কম খান, তারা টমেটো বা পেয়ারা খেতে পারেন।

বাইরে থেকে পুষ্টি: কদুর তেল

ডা. তাসনিম জারা বলেন, বাইরে থেকে পুষ্টি দিতে পাম্পকিন সিড অয়েল বা কদুর তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, তিন মাস কদুর তেল ব্যবহারে নতুন চুল গজায় ও চুল মোটা হয়।

ভিটামিন ট্যাবলেটের ব্যাপারে সতর্কতা

বাজারে অনেক ভিটামিন ট্যাবলেট বিক্রি হয়, তবে বেশিরভাগেরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খাবার থেকে পুষ্টি নেওয়াই ভালো। তবে ভিটামিন ডি-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম; খাবার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া কঠিন, তাই প্রয়োজনে ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন এ ট্যাবলেট চুল পড়ার কারণ হতে পারে, অন্যদিকে হলুদ রঙের সবজি থেকে ভিটামিন এ নিলে কোনো ক্ষতি নেই।

চুলের যত্নে সাধারণ ভুল

  • শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার না ব্যবহার করা: শ্যাম্পু চুলের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে, কন্ডিশনার তা ফিরিয়ে আনে।
  • ভেজা চুল ঘষে মুছা: তোয়ালে দিয়ে চাপ দিয়ে পানি বের করা উচিত, ঘষা নয়।
  • ভেজা চুল আঁচড়ানো: চুল কিছুটা শুকিয়ে চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা ভালো।
  • ব্লো ড্রায়ার বা কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত ব্যবহার: কম হিটে ও সপ্তাহে একবারের বেশি না ব্যবহার করাই ভালো।
  • খুব টাইট করে চুল বাঁধা: এতে ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন

যদি খাবার ও যত্ন ঠিক থাকার পরও চুল পড়ে, তাহলে থাইরয়েড বা রক্তশূন্যতার মতো রোগ থাকতে পারে। এছাড়া অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া নামে একটি রোগে পুরুষদের টাক পড়ে ও নারীদের চুল পাতলা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা পিআরপি থেরাপির মতো চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।