মাধ্যমিকের আগেই স্মার্টফোন আসক্তি, বাড়ছে মানসিক সমস্যা
মাধ্যমিকের আগেই স্মার্টফোন আসক্তি, বাড়ছে মানসিক সমস্যা

মাধ্যমিকে ওঠার আগেই শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি ও মানসিক সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০% শিশু প্রতিদিন চার ঘণ্টার বেশি সময় স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের স্ক্রিনে কাটায়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্মার্টফোন আসক্তি

বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের হার ক্রমশ বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শহরের ৭০% এবং গ্রামের ৫০% শিশু নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাসের কারণে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া বেড়েছে, যা এখন আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আগ্রাসন বাড়ছে। প্রায় ৩০% শিশু স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হচ্ছে, যা আসক্তির লক্ষণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

স্মার্টফোন আসক্তি শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত, সামাজিক দক্ষতা হ্রাস ও পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব ঘটাচ্ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শিশুদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ২৫% বেড়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি রোধে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, নইলে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়বে।”

শিক্ষা ব্যবস্থায় স্মার্টফোনের ব্যবহার

অনেক স্কুল এখন শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার চেয়ে সচেতনতা ও বিকল্প বিনোদনের মাধ্যমে আসক্তি কমানো বেশি কার্যকর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবার ও সমাজের ভূমিকা

অভিভাবকদের নিজেদেরও স্মার্টফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কারণ শিশুরা বড়দের দেখে শেখে। পাশাপাশি খেলাধুলা, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজে শিশুদের উৎসাহিত করা জরুরি।