প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিবরণ
"বৃক্ষরোপণে দেশকে সাজাই, বাংলাদেশ প্রথম" এই প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, পরে অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, বনায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে বর্তমান সরকারের অর্জনের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পুরস্কার ২০২৫, জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পুরস্কার ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করেন। তিনি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশের চেকও বিতরণ করেন।
বক্তব্য ও বিশেষ অতিথি
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরানো বাণিজ্য মেলা মাঠে অনুষ্ঠিত বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
মেলার লক্ষ্য ও পরিধি
পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলা ছাড়াও সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনের, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনের এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনের বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকায় জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল অংশ নিচ্ছে।
সরকারের মহাপরিকল্পনা
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, জাতীয় বৃক্ষ ডাটাবেস এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বনায়ন কার্যক্রম ডিজিটালি পর্যবেক্ষণ করা হবে। উদ্যোগটি প্রায় ৩৫০,০০০ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ১০,০০০ নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপান্তরিত করেন। তাঁর উদ্যোগে ১৯৭৯ সালে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়। পরে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলা চালু করেন এবং সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার প্রযুক্তি-নির্ভর ও টেকসই বন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে ১৩ জুন তারিক রহমান কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণ করে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর দেশব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।



