বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতিতে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের ৮০% উপজেলায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং জরুরি তহবিল গঠনের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি
ডিডিএমের মহাপরিচালক মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৩০০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ২০০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এতে করে দেশের মোট ৫০০টি উপজেলায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম পরিচালিত হবে।” এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ
নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হচ্ছে। ডিডিএম সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় ১০০টি নতুন সাইরেন বসানো হবে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে মাইকিং ও হ্যান্ড সাইরেনের ব্যবহার বাড়ানো হবে। কামরুল হাসান বলেন, “আমরা চাই দুর্যোগের আগেই মানুষকে সতর্ক করতে পারি, যাতে প্রাণহানি কম হয়।”
জরুরি তহবিল ও উদ্ধার সরঞ্জাম
প্রতিটি উপজেলায় একটি করে জরুরি তহবিল গঠন করা হবে, যার পরিমাণ হবে ৫ লাখ টাকা। এই তহবিল থেকে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া, প্রতিটি উপজেলায় নৌকা, লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য উদ্ধার সরঞ্জাম মজুত রাখা হবে। ডিডিএম জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৫০০টি নৌকা বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও ৩০০টি নৌকা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ
কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় ৫০ জন করে স্বেচ্ছাসেবককে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ১৫,০০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ২৫,০০০ স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
যদিও এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে দক্ষ জনবলের অভাব এবং তহবিলের সীমাবদ্ধতা প্রধান সমস্যা। ডিডিএমের মহাপরিচালক স্বীকার করেছেন, “আমাদের আরও অর্থায়ন প্রয়োজন। তবে সরকার ইতিমধ্যে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।” এছাড়া, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।



