জামালপুরে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনে এক সপ্তাহে ৩০ বসতবাড়ি বিলীন, শতাধিক পরিবার গৃহহারা
জামালপুরে নদীভাঙনে ৩০ বসতবাড়ি বিলীন, শতাধিক পরিবার গৃহহারা

জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৩০টি বসতবাড়ি, যার ফলে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে। ভাঙন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরের চর বাজারের পূর্বপাড় ও গোয়ালকান্দা এলাকায়।

নদীভাঙনের বর্তমান অবস্থা

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারত থেকে উৎপত্তি হয়ে জিঞ্জিরাম নদী বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ভূখণ্ড দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর একটি শাখা দেওয়ানগঞ্জের মানচিত্র দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে, অপর শাখা বকশীগঞ্জ উপজেলা হয়ে দশানী নদীতে মিলিত হয়েছে। নদীটির পানি বৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে পাহাড়ি ঢলের ওপর নির্ভরশীল। পাহাড়ি ঢল বাড়লে নদীর পানি বৃদ্ধি পায় এবং স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে, যা ভাঙনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

ভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

বছরের পর বছর একই ধরনের ভাঙন অব্যাহত থাকলেও প্রতিরোধে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে পাথরের চর বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, মসজিদ, সড়ক ও খেলার মাঠ। পাথরের চর ও গোয়ালকান্দা গ্রামের বাসিন্দা জরিনা বেগম, আব্দুর রশিদ, হাফেজ উদ্দিন ও জহুরুল ইসলামের বাড়িঘরসহ ৩০টি বাড়ি নদীভাঙনের শিকার হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য

নদীভাঙনের শিকার বসতভিটাহারা আলী আহমদ বলেন, ‘নদীভাঙনে প্রতি বছর শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্ষাকালে দুই/এক পোটলা মুড়ি চিড়া ছাড়া আমাদের ভাগ্যে কিছু জোটেনি।’

ক্ষতিগ্রস্ত জরিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। মাথার ওপর চাল নেই। আমরা রিলিফের পোটলা চাই না। আপনারা গাঙ (নদী) ঠেকান। গায়ে শক্তি আছে, কাজ করে খেতে পারব।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গোয়ালকান্দা গ্রামের বাসিন্দা তারা মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনে আমাদের সহায় সম্পদ সব কিছু গ্রাস করছে নদী। সব কিছু দেখার পরেও নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এ কারণে নদীভাঙন বাড়ছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ প্রতি বছর বসতভিটা হারিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে।’

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের বক্তব্য

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সারোয়ার আলম বলেন, ‘ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।’

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ‘পাথরেরচর ও গোয়ালকান্দা এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বাস্তবায়নের তাগিদও অব্যাহত আছে। কিন্তু আর্থিক বরাদ্দ ও অনুমোদন মেলেনি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিক্রিয়া

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে একটি অভিজ্ঞ টিম। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনমাফিক অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’