হালদা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর, ফটিকছড়িতে বন্যার আশঙ্কা
হালদা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর, ফটিকছড়িতে বন্যার আশঙ্কা

টানা চতুর্থ দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হালদা নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ধুরং ও সর্তাসহ বড় খাল-ছড়ার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর থেকে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

প্লাবিত এলাকা ও সড়ক

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়- উপজেলার লেলাং, সুয়াবিল পাইন্দং, ভুজপুর, নারায়ণহাট, সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও ধর্মপুর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ির উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। সুয়াবিলের নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক, ফটিকছড়ি-রাউজান সড়ক, হারুয়ালছড়ির খয়রাতিপাড়া এবং পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচান এলাকাসহ কয়েকটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক নিচু জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দা এয়াকুব শহীদ বলেন, “টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এরমধ্যে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সুয়াবিল-কাজিরহাট সড়ক ডুবে যাওয়ায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।” স্থানীয়রা জানান, হালদা নদীর পাশাপাশি ধুরং, লেলাং, কুতুবছড়ি, বারমাসিয়া, ফটিকছড়ি, হারুয়ালছড়ি, গজারিয়া, শোভনছড়ি ও সর্তা খালের পানিও দ্রুত বাড়ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের প্রস্তুতি

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নসহ ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট দুই পৌরসভার মোট ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত দুর্গত মানুষকে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইনসহ জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আশঙ্কা ও সতর্কতা

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হালদা নদীর পানি আরও বেশি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।” সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।