নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি মানবিক সহায়তার তালিকায় নিজের স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলমকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘প্রণোদনার তালিকায় কর্মকর্তার স্ত্রী-স্বজন! কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বঞ্চিত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। তার হস্তক্ষেপের পরই ওই কর্মকর্তাকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়।
বদলির আদেশ ও সময়সীমা
ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান স্বাক্ষরিত বদলির আদেশে বলা হয়েছে, মো. শাহীনুর আলমকে আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। এর আগে গত রোববার পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের বঞ্চিত কৃষকেরা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে মো. নুরে আলমসহ ২৪ জন কৃষক স্বাক্ষর করেন।
প্রণোদনা বিতরণ ও অভিযোগের বিবরণ
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৩২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য সরকারি প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পোগলা ইউনিয়নে উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ৬৮৭ জন। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলম প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে নিজের স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়দের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। গত ১৭ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ৬ হাজার টাকা নগদ এবং ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়।
কর্মকর্তার বক্তব্য ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তালিকা থেকে শাহীনুর আলমের স্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার তাকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইলে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি তার নজরে আসার পর তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলমকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছেই পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।”



