ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কিংবদন্তি পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন উদযাপন করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে (আইজিসিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী।
হাইকমিশনের শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণ
বক্তব্যে হাইকমিশনার ত্রিবেদী পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করেন এবং বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন শিল্পীরা ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে তুলেছেন। তিনি বলেন, "সুর সব মানুষের, সবার। পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি।"
প্রধান আকর্ষণ: গাজী আবদুল হাকিমের পরিবেশনা
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল দেশের প্রখ্যাত বাঁশিবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সুরমুগ্ধ পরিবেশনা। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় রাগ পরিবেশনের মাধ্যমে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন
পরে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার জীবন, সংগীতসাধনা, আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে তার অনন্য অবদান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
শৈশব ও সংগীতজীবনের কাহিনি
হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার জন্ম ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের এলাহাবাদে। চার বছর বয়সে তার মা মারা যান। তার বাবা একজন কুস্তিগির ছিলেন এবং চাইতেন তিনিও কুস্তিগির হন। এ কারণে তাকে বাবার কাছ থেকে লুকিয়ে বাঁশি শিখতে হয়। তিনি ১৫ বছর বয়স থেকে প্রতিবেশী পণ্ডিত রাজারামের কাছ থেকে কণ্ঠশিল্পে দীক্ষা নেওয়া শুরু করেন। পরে বারাণসীর পণ্ডিত ভোলানাথ প্রসন্নের কাছে বাঁশি শেখা শুরু করেন। এরও অনেক পরে আকাশবাণীতে কাজ শুরু করলে অন্নপূর্ণা দেবীর (আলাউদ্দিন খাঁর মেয়ে) নির্দেশনা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও লক্ষ্য
অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, বিশিষ্ট শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষার্থী ও বিপুলসংখ্যক সংগীতপ্রেমী অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় শিল্পকলার প্রসার এবং সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।



