শাহেদ কামাল: শোষণমুক্ত প্রগতিশীল সমাজের দর্শন লালনকারী সাংবাদিক
শাহেদ কামাল: শোষণমুক্ত সমাজের দর্শন লালনকারী সাংবাদিক

প্রয়াত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শাহেদ কামালকে শোষণমুক্ত প্রগতিশীল সমাজের দর্শন লালনকারী, অর্থমোহহীন ও সরল মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন তাঁর সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা। বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে কবি সুফিয়া কামালের বাসভবন ‘সাঁঝের মায়া’য় তাঁর স্মরণসভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও সাঁঝের মায়া। সেখানে শাহেদ কামালের সহকর্মীরা ছাড়াও শিক্ষার্থী, স্বজন ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

সহকর্মীদের মূল্যায়ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক গোলাম রহমান প্রয়াত সহকর্মীর চরিত্রের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শাহেদ কামাল শোষণমুক্ত প্রগতিশীল সমাজের দর্শন লালন করতেন। অর্থের প্রতি তাঁর কোনো মোহ ছিল না। তিনি যেকোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক সংকটকে খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারতেন।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য

শাহেদ কামালের ছোট বোন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল দেশের বাইরে থাকায় অনলাইনে ভিডিও কলে স্মরণসভায় যুক্ত হন। তিনি বলেন, শাহেদ কামালের জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। তাই তাঁর সম্পর্কে এক বাক্যে কিছু বলাটা কঠিন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাহেদ কামালের ছোট বোন চিত্রশিল্পী সায়িদা কামাল বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা শাহেদ কামালকে জানতেন, চিনতেন, তাঁরা জানেন, তিনি ছিলেন প্রচণ্ড মেধাবী। কিন্তু তিনি হঠাৎ এভাবে চলে যাবেন, সেটা আমরা ভাবতে পারিনি।’

বন্ধু ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, শাহেদ কামাল খুব সরল মনের মানুষ ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, শাহেদ কামাল খুব আধুনিক মানুষ ছিলেন। তিনি এতটাই আধুনিক ছিলেন, সমাজ তখনো তাঁর সমান আধুনিক হয়ে ওঠেনি। তাঁর আলাদা জগৎ ছিল। প্রচণ্ড মেধাবী হয়েও কখনো স্বীকৃতি চাননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুব্রত শঙ্কর ধর বলেন, শাহেদ কামাল সব আনন্দের উৎস ছিলেন। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক হলেও তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে তিনি আর ফিরবেন না।

স্মরণসভার আয়োজন

স্মরণসভা শুরু হয় অতুলপ্রসাদ সেনের ‘আমায় রাখতে যদি আপন ঘরে’ গানটি দিয়ে। পরে সূচনা বক্তব্য দেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। স্মরণসভার সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

স্মরণসভায় শাহেদ কামালের ছোট ভাই সাজেদ কামালসহ শাহেদ কামালের স্বজন, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহেদ কামালের জীবন

কবি সুফিয়া কামালের বড় ছেলে শাহেদ কামাল। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) বার্তা সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি ১৯৭৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৪ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।