কৃষিঋণ মওকুফে আনসার-ভিডিপির ৮,৮৪৩ সদস্য লাভবান, সরকারের ব্যয় ৭ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘোষিত কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধার আওতায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত এই বিপুলসংখ্যক সদস্যের ঋণের দায়ভার লাঘব হওয়ায় বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তথ্য
রাজধানীর রাজারবাগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মোফাজ্জল হোসেন। তিনি জানান, সারা দেশে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য রয়েছে, যাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক সদস্য সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত।
তিনি উল্লেখ করেন, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্রায় ৯৮ শতাংশই সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত, যা কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই সুবিধার আওতায় ৮,৮৪৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আনসার-ভিডিপির গঠন ও ভূমিকা
মীর মোফাজ্জল হোসেন স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রাম পর্যায়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম সরকার গঠনের পাশাপাশি ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ভিডিপি) বা গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে পরিচিত, যার বেশিরভাগ সদস্য সরকারি কর্মে নিয়োজিত নন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেবল কিছু সদস্য যেমন বিসিএস আনসার ক্যাডার, ব্যাটালিয়ন আনসার ও সাধারণ আনসার সরকারি চাকরি করেন। উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু আনসার সদস্য সরকারি চাকরি করেন এবং বেতন-ভাতা পান। তবে ভিডিপির সদস্যরা মূলত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন, যারা নির্বাচন, ঈদ বা পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন এবং শুধু সেই সময়ের জন্যই দৈনিক ভাতা পান।
জীবনধারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড
বছরের বাকি সময় তাদের কোনো বেতন-ভাতা না থাকায় জীবনধারণের জন্য তারা হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন। মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য সমাজের নিম্ন আয়ের স্তরে বাস করেন, যা তাদের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম
তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তাকারী দরিদ্র আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কল্যাণে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ব্যাংকের মাধ্যমে সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়, যার অধিকাংশই বিনা জামানতে প্রদান করা হয়ে থাকে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সারা দেশে আনসার-ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৬ লাখ সদস্যকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, এবং ঋণ আদায়ের হার সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে, খেলাপি ঋণ নেই বললেই চলে। সদস্যদের এক, দুই ও সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য এবং সদস্যরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন।
ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সারা দেশে ২৬৩টি শাখার মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বর্তমানে ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে প্রায় ৮শ’র বেশি পদ শূন্য রয়েছে, এবং এসব পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন।
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উন্নয়নে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যাংকের শাখা বৃদ্ধি এবং মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মীর মোফাজ্জল হোসেন আশা প্রকাশ করেন যে সরকার শিগগিরই এই প্রস্তাব অনুমোদন করবে, যা বাহিনীর সদস্যদের জন্য আরও ব্যাপক সহায়তা নিশ্চিত করবে।



