সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ভালো ফলন, কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষকরা
সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ভালো ফলন, ন্যায্যমূল্যে হতাশ কৃষক

সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ভালো ফলন, কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষকরা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের চমৎকার ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তারা লাভ করতে পারছেন না। এই অবস্থায় অনেক কৃষক এখনো জমি থেকে পরিপক্ব পেঁয়াজ তুলছেন না এবং সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষকদের হতাশা ও আর্থিক সংকট

সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার ধাপ গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জেগে ওঠা জমিতে তিনি এ বছর ১১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এতে সার, সেচ, কীটনাশক, বীজ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তার ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি। ভালো ফলন হলেও বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখছেন না। তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও দাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছি। সরকার যদি প্রতিমণ পেঁয়াজের সর্বনিম্ন মূল্য ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে, তাহলে কিছুটা লাভবান হতে পারব।”

উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক দুলাল কাজী জানান, তিনি প্রায় ৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় পেঁয়াজ উত্তোলনে দ্বিধায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের পরিসংখ্যান

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬০০ হেক্টর, যার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪২০ হেক্টর জমির পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। গড় ফলন হয়েছে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মণ, যা এলাকার বেলে দোআঁশ মাটির উপযোগীতার কারণে সম্ভব হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ও সহায়তা

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, এলাকার বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা কিছুটা হতাশ। তিনি কৃষকদের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সংরক্ষণে সহায়তার জন্য কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এই অবস্থায় কৃষকরা আশা করছেন, সরকারি নীতিমালা ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং তাদের কষ্টের ফলন লাভজনক হয়ে উঠবে। সারিয়াকান্দির মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় এই সমস্যার সমাধান স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।