সার সংকটে কৃষি বিপর্যয়: আসন্ন মৌসুমের প্রয়োজনীয় সার সরকারের কাছে নেই
দেশে গ্যাস সংকটের কারণে একের পর এক সার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরও খারাপ খবর দিয়েছেন শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আসন্ন মৌসুমের প্রয়োজনীয় সার সরকারের কাছে নেই।
গোলটেবিল বৈঠকে সচিবের সতর্কবার্তা
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান এসব কথা বলেন। ‘বৈশ্বিক জ্বালানি-সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
শিল্প সচিব বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস আমদানিতে ঝুঁকি আছে। জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার জন্য সার কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে জগাখিচুড়ি অবস্থা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় আসন্ন মৌসুমে যে সার লাগবে তা সরকারের কাছে নেই।”
চার লাখ টনের বেশি সারের ঘাটতি
গ্যাস সংকটের কারণে দেশে চার লাখ টনের বেশি সারের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুর রহমান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “আমরা এখন সার কারখানায় মাত্র তিন-চার মাস গ্যাস পাচ্ছি। জুন মাস পর্যন্ত কৃষির জন্য যে সার দরকার সেক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য থাকে, যেন জুন পর্যন্ত ছয় লাখ টনের ওপরে মজুত থাকে। কিন্তু, বর্তমান হিসাবে মাত্র দুই দশমিক ১৭ লাখ টন মজুত আছে। তার মানে চার লাখ টনের ওপরে সংকট এখন পর্যন্ত হিসাবে আছে।”
এই সংকটের ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সার কারখানাগুলোর বন্ধ থাকা এবং আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য বলে মনে করা হচ্ছে।



