বিশ্বের সিংহভাগ ইলিশ বাংলাদেশে উৎপাদিত, জাটকা সংরক্ষণে জোরালো আহ্বান
বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয় বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাটকা ধরা বন্ধ হলে উৎপাদন বাড়বে
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জাটকা ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকতে জেলেদের সচেতন হতে হবে এবং আইন মেনে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলেদের জন্য ব্যাপক খাদ্য সহায়তা
মৎস্য প্রতিমন্ত্রী জানান, গত দুই মাসে প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে, যার মোট মূল্য প্রায় ছয় হাজার টাকা। অতীতে জেলেরা এত পরিমাণ সহায়তা পায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
কর্মশালায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সভাপতিত্ব করেন ড. অনুরাধা ভদ্র, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন মোঃ জিয়া হায়দার চৌধুরী, ড. কাজী আহসান হাবীব এবং ড. মো: মোতালেব হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
এই কর্মশালায় ইলিশ সংরক্ষণ ও গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়, যা দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



