টেকনাফে ১১০০ লাল কোরাল ধরা পড়েছে, বিক্রি হয়েছে ৩১ লাখ টাকায়
টেকনাফে ১১০০ লাল কোরাল ধরা, বিক্রি ৩১ লাখ টাকা

টেকনাফে ১১০০ লাল কোরাল ধরা পড়েছে, বিক্রি হয়েছে ৩১ লাখ টাকায়

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রায় ১১০০টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। স্থানীয় ভাষায় এই মাছকে রাঙা চৈ মাছ নামে পরিচিত, এবং প্রতিটি মাছের ওজন আনুমানিক ৫ থেকে ৬ কেজি বলে জানা গেছে।

মাছ ধরা ও বিক্রির ঘটনা

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে টেকনাফের কায়ুকখালী মৎস্য ঘাটে এই মাছগুলো বিক্রি করা হয়। মোট ১১০০টি লাল কোরাল ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা জেলেদের জন্য একটি বিশাল আর্থিক সাফল্য বয়ে এনেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ নাইট্যং পাড়ার মিজানের মালিকানাধীন একটি বোট গত শনিবার বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে জাল ফেলে মাছ শিকার করতে থাকে, এবং সোমবার দুপুরের দিকে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রাঙা চৈ মাছ বা লাল কোরাল ধরা পড়তে শুরু করে।

এভাবে প্রায় ১১০০টি মাছ জালে ধরা পড়ে, যা দেখে বোটে থাকা জেলেদের চোখেমুখে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরে মাছগুলো বোটে করে টেকনাফ পৌর শহরের মৎস্য ঘাটে নিয়ে আসা হয়, যেখানে প্রথমে ৪০ লাখ টাকা দাম হাঁকানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি সম্পন্ন হয়।

জেলেদের প্রতিক্রিয়া

বোট মালিক মিজান জানান, "সব মহান আল্লাহর দান। সাগরে জাল ফেলে এতগুলো মাছ পাব আবার তা এত দামে বিক্রি হবে তা কল্পনাও করিনি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মাছগুলো টেকনাফের স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

মৎস্য অফিসারের মন্তব্য

টেকনাফ উপজেলা উপ-সহকারী মৎস্য অফিসার শহিদুল আলম জানান, মাছগুলো খেতে খুব সুস্বাদু এবং জেলেদের জালে এমন সফলতার জন্য মৎস্য বিভাগও আনন্দিত। তিনি মনে করেন যে সরকারের পক্ষ থেকে মাছ শিকারের জন্য দেওয়া বিভিন্ন বিধি-নিষেধ মেনে চলার কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনা টেকনাফের মৎস্য শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা স্থানীয় জেলেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং মৎস্য সম্পদের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরছে।