ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার খাদ্যমন্ত্রীর
খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ রবিবার বলেছেন, সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য
ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যাওয়া। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। মন্ত্রী ঐতিহাসিক একটি উপমা টেনে বলেন, যেভাবে পূর্ববর্তী প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত বিশ্ব রেখে গেছেন, ঠিক তেমনি আজকের নাগরিকদেরও দায়িত্ব হলো আগামী প্রজন্মের জন্য দেশকে রক্ষা করা এবং আরও উন্নত করা।
খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও রপ্তানির লক্ষ্য
খাদ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। সরকারের পরবর্তী লক্ষ্য হলো পূর্ণ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা। তিনি বলেন, "এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।"
কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের সাথে জড়িত। কৃষকদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও মজবুত হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
খাদ্য নিরাপত্তার মৌলিক তাৎপর্য
মন্ত্রী বলেন, "চূড়ান্তভাবে, উন্নয়ন ও অগ্রগতির গভীর শিকড় প্রোথিত রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তায়। একজন যতই সম্পদ অর্জন করুক না কেন, জীবনের মৌলিক সত্য হলো ক্ষুধা নিবারণ।" তিনি দেশে খাদ্য উৎপাদন, মৎস্য, মাংস ও ডিমের উৎপাদনের জাতীয় গুরুত্বের উপর জোর দেন।
রাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের বক্তব্য
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং তারা আর বৈষম্য বা দুর্নীতি দেখতে চায় না।
তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সরকারের লক্ষ্য অর্জনে দলগত কাজ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরকারের উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিকতার সাথে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এই মতবিনিময় সভায় সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। মন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষি খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি পরিষ্কার চিত্র উঠে এসেছে।
