হাওড়ে কৃষকদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওড় এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম পুরোদমে শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হাওড়জুড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে তীব্র গরম ও খোলা মাঠে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে তারা বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন। অনেক কৃষক দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অনিরাপদ ও দূষিত পানি পান করছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ
এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কৃষকদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার থেকে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাওড় এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে সোনাডুবি হাওড়ের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি, নাগডরা হাওড়ের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তাখলা হাওড়, হাইডুলি কান্দা এবং রাজাপুর গ্রামের সামনে কাটাগুপাট এলাকাসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও স্থানে এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, "গরমের মধ্যে সারা দিন হাওড়ে কাজ করতে হয়। আগে বিশুদ্ধ পানির খুব কষ্ট ছিল। অনেক সময় দূর থেকে পানি আনতে হতো, আবার কখনো ময়লা পানিও খেতে হয়েছে। এখন যদি হাওড়ের মাঝেই টিউবওয়েল পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে।"
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান কাটার মৌসুমে প্রতি দিন হাজারও কৃষক হাওড়ে কাজ করেন; কিন্তু এতদিন সেখানে বিশুদ্ধ পানির কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে দুপুরের প্রখর রোদে পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। নতুন এই উদ্যোগ কৃষকদের সেই কষ্ট অনেকটাই লাঘব করবে বলে তারা আশা করছেন।
ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য
এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, "হাওড়ে কাজ করা কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাদের কষ্ট লাঘব করা আমাদের দায়িত্ব। বিশুদ্ধ পানির অভাব তাদের জন্য বড় একটি সমস্যা ছিল। তাই দ্রুত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও প্রয়োজনীয় স্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে, যাতে কোনো কৃষক পানির কষ্টে না থাকে।"
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে হাওড় এলাকায় কৃষকদের জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতেও কাজ করা হবে। এই উদ্যোগ কৃষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



