সুপ্রিম কোর্টে ভার্চ্যুয়াল আদালত কার্যক্রম শুরু, আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদ
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে আজ বুধবার থেকে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আইনজীবীদের একাংশ সপ্তাহে দুই দিন ভার্চ্যুয়ালি আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
ভার্চ্যুয়াল আদালতের কার্যক্রম ও মামলা নিষ্পত্তি
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ২০ এপ্রিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে এবং অন্যান্য কার্যদিবসে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ৬৩টি বেঞ্চে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের তথ্য মতে, আপিল বিভাগে ৯৫টি মামলার শুনানি এবং ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগে ৬১২টি মামলার শুনানি এবং ১৫৬টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সর্বমোট ৭০৭টি মামলার শুনানি এবং ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
আইনজীবীদের বিক্ষোভ ও দাবি
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে আজ বিক্ষোভ মিছিল, ব্রিফিং ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে আইনজীবীদের একাংশ। তারা সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়েছে। আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ক্যামেরা ট্রায়ালের মতো সাংবাদিকরা আদালতে প্রবেশ করতে পারেন না, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। স্বাধীন বিচার বিভাগে মিডিয়ার অ্যাকসেস অপরিহার্য।’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কালো পতাকাসহ অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য
নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ব্যবস্থাটা সম্পূর্ণ সাময়িক। এটা দীর্ঘমেয়াদি কোনো ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান বিচারপতি গ্রহণ করেননি।’ তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি ৭ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবী সমিতির নেতাদের ডেকে সপ্তাহে দুদিন ভার্চ্যুয়াল কোর্ট পরিচালনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যাতে জ্বালানির ওপর চাপ কমে। অ্যাটর্নি জেনারেল ভার্চ্যুয়াল কোর্টে মামলার কার্যক্রম গতিশীল বলে মনে করেন, তবে শারীরিক উপস্থিতির পক্ষে যুক্তিগুলোও স্বীকার করেছেন।
পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের আগে গতকাল একদল আইনজীবী মানববন্ধন করেছিলেন, যেখানে ব্যানারে লেখা ছিল ‘আয়োজনে: সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্যবৃন্দ’। আইনজীবীদের মতে, সরকারপক্ষ থেকে জ্বালানিসংকট নেই বলে বলা হলেও আদালতের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালত পরিচালনায় তিনি কোনো সমস্যা বোধ করেননি, কিন্তু আইনজীবীদের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতি কতদিন চলবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে প্রধান বিচারপতির বিবেচনায় এটি সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে রয়ে গেছে। আইনজীবীদের আন্দোলন ও আদালতের কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা আগামী দিনগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



