যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে আইনপ্রণেতাদের এই আকস্মিক পদক্ষেপ তার প্রশাসনিক কাজকে আরও অনেক বেশি জটিল করে তুলেছে, যার ফলে প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুপক্ষেরই বড় ধরনের সুবিধা হয়েছে।
ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া
নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক কড়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি যখন ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলেছি, তারা যখন পুরোপুরি নতিস্বীকার করতে প্রস্তুত এবং আমাদের কার্যত সবকিছুই দিতে রাজি, এমনকি কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রেসিডেন্টকে চরম সমীহ করছে; ঠিক তখনই মার্কিন সিনেট একটি অসময়োচিত ও অর্থহীন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন ভোটের সিদ্ধান্ত নিল।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বার্তায় আরও দাবি করেন যে এই বিতর্কিত ভোটের মাধ্যমে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশকে এই ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলো একেবারেই পছন্দ করছে না এবং তাকে অবশ্যই এখন থামতে হবে।
রিপাবলিকানদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী এই বিলটি পাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা মূলত শত্রুদের সরাসরি সাহায্য ও বাড়তি সুবিধা প্রদান করেছেন। এই বিশেষ যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যে চারজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা সিনেটর একাত্মতা প্রকাশ করে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের ওপর বিশেষভাবে অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন আইনসভার এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।
কূটনৈতিক প্রভাব
কূটনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন যে ইরান ইতিমধ্যেই তার কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করেছে যে, ‘এই সবকিছুর মানে কী?’ নিজের ক্ষোভ পুনর্ব্যক্ত করে তিনি পোস্টের শেষ অংশে লিখেছেন যে, ‘এই সিনেটররা আমার কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছেন। তবে আমি যেকোনও উপায়েই হোক কাজটা শেষ করব, কারণ আমি সবসময়ই সফল হই!’
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।



