সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত সন্তোষজনক, বোরো মৌসুমে সংগ্রহ লক্ষ্য নির্ধারণ
জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, দেশের সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমান খাদ্যশস্যের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন বোরো সংগ্রহ মৌসুমে (আগামী মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত) অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের আওতায় সরকার ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রীর বক্তব্য
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এই তথ্য উপস্থাপন করেন। মন্ত্রী বলেন, "১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি খাদ্য গুদামে বর্তমানে ১৭ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চাল— ১৪ দশমিক ৬৪ লাখ মেট্রিক টন ও গম ৩ দশমিক ০৭ লাখ মেট্রিক টন।"
খাদ্য মজুত বৃদ্ধির কৌশল
মন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য মজুত বৃদ্ধির জন্য সরকার জি-টু-জি পদ্ধতি ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে চাল-গম আমদানি এবং অভ্যন্তরীণভাবে বোরো ও আমন মৌসুমে খাদ্য অধিদফতরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রাইস মিল থেকে চাউল সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া, কৃষি সহায়ক কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকদের থেকে ধান ও গম সরকার নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা হয়।
চলতি অর্থবছরের আমদানি অগ্রগতি
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক দরপত্রে ৫ লাখ মেট্রিক টন ও জি-টু-জি পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন— মোট ৬ লাখ মেট্রিক টন চুক্তির বিপরীতে ৩ দশমিক ৫৭ লাখ মেট্রিক টন চাউল পাওয়া গেছে বলে মন্ত্রী জানান। অবশিষ্ট ২ দশমিক ৪৩ লাখ মেট্রিক টন চাউল আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে।
একই অর্থবছরে গম আমদানির ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক দরপত্রে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ও জি-টু-জি পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬ দশমিক ৬০ লাখ মেট্রিক টন— মোট ৭ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টন চুক্তির বিপরীতে ৭ দশমিক ০৩ লাখ মেট্রিক টন গম পাওয়া গেছে। ৫১০ শতাংশের অবশিষ্ট হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গমের একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে চট্টগ্রামে আসার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
আসন্ন বোরো মৌসুমের পরিকল্পনা
খাদ্যমন্ত্রী জানান, আসন্ন অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ মৌসুমে (মে-আগস্ট পর্যন্ত) ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির (এফপিএমসি) সভায় চূড়ান্ত করা হলে সে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রয়োজনের নিরিখে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ও অভ্যন্তরীণভাবে চাল-গম সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই উদ্যোগগুলি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



