বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন খ্রিষ্টান নেত্রী আন্না মিনজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেত্রী আন্না মিনজ। তিনি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল গ্রামের বাসিন্দা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক জন গমেজের সহধর্মিণী হিসেবে পরিচিত।
মনোনয়নের খবরে নাটোরে উচ্ছ্বাস
বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সর্বস্তরে, বিশেষ করে খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। আন্না মিনজ ও তাঁর স্বামী ঢাকায় অবস্থান করলেও স্থানীয় লোকজন দল বেঁধে জোনাইল গ্রামে তাঁদের বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে আন্না মিনজকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় অনেকে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন।
স্বামীর শুভকামনা ও সমর্থন
আন্না মিনজের স্বামী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আইনজীবী জন গমেজ তাঁর ফেসবুক পেজে তাঁর স্ত্রীর জন্য দোয়া ও শুভকামনা চেয়ে লেখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্না মিনজ যেন সুবিধাবঞ্চিত জনগণ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সফলভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের নাটোর জেলা আহ্বায়ক অমর ডি কস্তা লিখেছেন, ‘দেশের সব ধর্ম-বর্ণ-সংস্কৃতিকে বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন মহান সংসদ গড়ার চেষ্টা করছেন এবং তাতে সফল ও প্রশংসিত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। আন্না মিনজ একজন সফল ও সুযোগ্য নারীনেত্রী। তাঁর নেতৃত্ব এই এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।’
বনপাড়া খ্রিষ্টান কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবলু রেনেতোস কোড়াইয়া বলেন, ‘আন্না মিনজের বিএনপিতে মনোনয়ন পাওয়াটা সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নাটোর জেলা সভাপতি প্রদীপ নাকরা বলেন, ‘সংসদে অধিকারবঞ্চিত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলার জন্য একজন প্রতিনিধি থাকা দরকার ছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের এই উদার, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভাবনাকে সম্মান জানাই।’
এই মনোনয়ন রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকে শক্তিশালী করতে পারে।



