জ্বালানি তেল ও এলপিজি মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের দ্বিগুণ চাপ, পাম্পে লাইন কমেনি
জ্বালানি তেল ও এলপিজি মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের চাপ

জ্বালানি তেল ও এলপিজি মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের উপর চাপ দ্বিগুণ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ—এই দুইয়ের চাপ একসঙ্গে পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের উপর। সরকারি ঘোষণা সত্ত্বেও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন কমেনি, অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

পেট্রোল পাম্পে লাইন কমার কোনো লক্ষণ নেই

১৮ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা, ডিজেল ১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

রাজধানীর শেরাটন হোটেলের উল্টো দিকের মেঘনা পেট্রোল পাম্প, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, রমনা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নীলক্ষেত থেকে তেল নিতে আসা রুহুল আমিন বলেন, "দাম বাড়িয়ে কোনো লাভ হয়নি। ভোগান্তি কমেনি। সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা শুধু পত্রিকার পাতায়।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নাগালের বাইরে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরদিনই ১৯ এপ্রিল এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,১০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। পশ্চিম ধানমন্ডির এক ডিলার জানান, "আমাদেরও বেশি দামেই কিনে আনতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সিলিন্ডার কম পাওয়া যায়।"

রামপুরা উলনের বাসিন্দা কাজী মিলি বলেন, "এলপিজির দাম কখনোই সরকার নির্ধারিত দামে কিনতে পারিনি। কোথায় আসলে সরকারি দামে পাওয়া যায়, সেটা জানা গেলে উপকার হতো।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের উদ্যোগ ও বাস্তবতার পার্থক্য

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে জ্বালানি তেলের মজুতের কোনো বড় সংকট নেই। "প্যানিক বায়িং" বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার ভীতি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতের প্রবণতাই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।

উপদেষ্টা পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান, রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গত বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের মিজানুর রহমান রতন বলেন, "সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও চাহিদা অনুযায়ী এখনও আমরা তেল পাচ্ছি না। আগের মতোই রেশনিং করে তেল দেওয়া হচ্ছে।"

বিশেষজ্ঞদের মতামত

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, "সরবরাহ বাড়ানোর তো কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। কথার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকারের উচিত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানো।" তিনি আরও যোগ করেন, "যখন ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না, তখনই মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ে। অনাস্থার জন্ম নেয়।"

সরকার ইতিমধ্যে পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং "ফুয়েল পাস অ্যাপ" চালু করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকার ২০টি পাম্পে এবং ১৪ জেলায় এই পাস চালু করা হয়েছে বাইকারদের জন্য। তবে এসব উদ্যোগের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে চাপ কমার বদলে আরও বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যয়ের উপর। ভোক্তারা আশা করছেন, দ্রুত এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটবে এবং জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে।