কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী সাত দফা পরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, কৃষি উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একটি সময়োপযোগী সাত দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বুধবার দুপুরে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ঘোষণা দেন।
কৃষি নির্ভর দেশে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, চাষযোগ্য জমি সংকোচন এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মতো চ্যালেঞ্জগুলো এই খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং কৃষিকে একটি টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের জন্য সরকার এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফার্মার কার্ডের মাধ্যমে ১০ ধরনের সুবিধা
প্রধানমন্ত্রী জানান, উদ্যোগের অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য একাধিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে "ফার্মার কার্ড" ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ
- ভর্তুকি ও প্রণোদনা
- কৃষি যন্ত্রপাতির সুবিধা
- সেচ সহায়তা
- কৃষি ঋণ
- ফসল বীমা
- বাজার তথ্য
- প্রশিক্ষণ
- ডিজিটাল পরামর্শ সেবা
সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ২৭৫ লাখ কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করেছে।
সাত দফা পরিকল্পনার মূল উপাদানসমূহ
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখিত সাত দফা পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ
- পতিত জমি চাষের আওতায় আনা
- ফসল জোনিং পদ্ধতি চালু করা
- কৃষি পণ্যের বহুমুখীকরণ
- কৃষকদের জন্য স্বচ্ছ প্রণোদনা নিশ্চিতকরণ
- সুবিধাজনক সুদে ঋণ ও ফসল বীমা প্রদান
- আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। একইসাথে ট্রাক্টর ও হারভেস্টারের মতো কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করতে ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফসল জোনিং ব্যবস্থা মাটি ও জলবায়ুর অবস্থার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত ফসল নির্ধারণে সহায়তা করবে, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে। পতিত জমি চাষের আওতায় আনার জন্যও প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।
বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ধীরে ধীরে ধানভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ফল, শাকসবজি, ডাল, তৈলবীজ, মসলা ও ফুলের চাষ সম্প্রসারণের দিকে এগোচ্ছে।
আর্থিক বরাদ্দ ও গবেষণা কার্যক্রম
প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির অধীনে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংরক্ষণাগার উন্নয়নের জন্য সরকার আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা ও গুদাম নির্মাণ করছে এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি ইনস্টিটিউট (বিনা) সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী ফসলের জাত উন্নয়নে কাজ করছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী
একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাটির উর্বরতা উন্নতির জন্য সরকার ন্যানো সার ব্যবহার ও মাটি পরীক্ষাকে উৎসাহিত করছে। তিনি যোগ করেন, ফার্মার কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদত্ত সহায়তা থেকে প্রান্তিক কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকরাও উপকৃত হবেন।



