সিলেটের কোয়ারিতে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর নির্দেশনা
শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সনাতন পদ্ধতিতে পাথর তোলার ব্যাপারে আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত এক ছটাক বালু-পাথরও এদিক-সেদিক করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সিলেটের কোয়ারি থেকে পাথর চুরি শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে লুটপাটের মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে রীতিমতো গণলুটের ঘটনা ঘটে, যেখানে দেশ-বিদেশে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত সাদাপাথরের প্রায় ৮০ শতাংশ পাথর লুটপাট হয়।
প্রভাবশালী লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
মতবিনিময় সভায় শ্রমমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, যাঁরা বালু-পাথর লুটপাটে জড়াবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার কোয়ারিগুলো থেকে কেউ যেন অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন না করতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঘোষণা
বালু ও পাথর লুটপাট ঠেকানোর জন্য মন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানান:
- বাড়তি পুলিশ ফোর্স ইতিমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।
- আগামী দুই দিনের মধ্যে বিজিবি থেকেও একটি প্লাটুন দেওয়া হবে।
- পাথর কোয়ারির জন্য আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে জায়গায় বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানাকে সরাসরি নির্দেশ
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি লুটপাটে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে ধরে আমাকে খবর দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, অমুকের ছত্রচ্ছায়ায় বা শেল্টারে এসব কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। গভীর রাতে চোর-পুলিশ খেলা হলে গভীরভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাত গভীর থাকতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কেউ টেরও না পায়।
এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন, যারা কোয়ারি এলাকার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। মন্ত্রীর এই কঠোর বক্তব্য সিলেট অঞ্চলে অবৈধ পাথর উত্তোলন রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
