কিশোরগঞ্জে অফিস সহায়ক নিয়োগে প্রক্সি কেলেঙ্কারি: ৯ জনের কারাদণ্ড
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে লিখিত পরীক্ষায় অন্যদের দিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে পাশ করার পর মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়েছেন ৯ জন পরীক্ষার্থী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাদের আটক করা হয়। ভাইভা দিতে এসে জালিয়াতি ধরা পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার নাগরিকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভাইভা বোর্ডে আসার পর সব পরীক্ষার্থীদের মতো তাদের হাতের লেখার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার খাতার লেখা মিলিয়ে দেখা হয়। হাতের লেখায় অমিল থাকায় সন্দেহ তৈরি হলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন যে তারা নিজেরা পরীক্ষা দেননি, বরং অন্যদের মাধ্যমে প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষায় পাশ করেছেন।
দণ্ডাদেশ ও তদন্ত প্রক্রিয়া
জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, রাহুল ঘোষ পলাশ, আমিন অর রশিদ, মশিউর রহমান এবং রিয়াদ হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৯ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করেন। মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, "তাদের হাতের লেখা যাচাই করার সময় তারা স্বীকার করে প্রক্সির মাধ্যমে তারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পরে তাদের ১৫ দিনের করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই কাজের জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য সব তথ্য পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দেওয়া হয়েছে।"
এই ঘটনা সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশা করছেন যে এই দণ্ডাদেশ ভবিষ্যতে অনুরূপ অপকর্মে নিরস্ত করবে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
