সিরাজগঞ্জে বায়োগ্যাস প্লান্ট বিস্ফোরণে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, আপোষে মিমাংসা
সিরাজগঞ্জে বায়োগ্যাস বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক নিহত

সিরাজগঞ্জে বায়োগ্যাস প্লান্ট বিস্ফোরণে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় একটি দুগ্ধ কারখানার বায়োগ্যাস প্লান্টে বিস্ফোরণ ঘটে দুই শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ি গ্রামের আব্দুল মোমিন (৪৫) এবং কায়েমপুর ইউনিয়নের সস্তাবাজ গ্রামের লাল চাঁদ (৪০)। দুর্ঘটনায় তাদের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়, যা চিকিৎসার পরও রোধ করা সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার বিবরণ

জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের দুর্গাদহ গ্রামে রূপ কুমার ঘোষের দুধের কারখানার পাশে নির্মিত বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিষ্কারের কাজে দুই শ্রমিক ট্যাঙ্কের ভেতরে নামেন। মটরের সাহায্যে পরিষ্কারের কাজ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কারখানার মালিক রূপ কুমার ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, একজন শ্রমিক সিগারেট ধরালে ভিতরে জমে থাকা গ্যাসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও মৃত্যু

স্থানীয়রা দ্রুত দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে স্থানীয় পিপিডি ট্রাস্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাদের অবস্থা অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

আপোষ মিমাংসা ও দাফন

দুর্ঘটনায় নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের সাথে কারখানা মালিকের পক্ষ থেকে গ্রামের প্রধান বর্গ শালিস বৈঠকের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসা হয়েছে। পরিবার প্রতি ৬ লাখ টাকা করে মোট ১২ লাখ টাকার সম্মতিতে গত সোমবার রাতেই মৃত দুই শ্রমিকের লাশ দাফন করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশি তদন্ত

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, বায়োগ্যাস প্লান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া দুই শ্রমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ না থাকায় নিহত দুই শ্রমিকের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনা শ্রমিক নিরাপত্তা ও বায়োগ্যাস প্লান্ট ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা জরুরি হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।