জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্র ২০২৬-৩০ অনুমোদন
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্র অনুমোদন

নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) প্রণয়ন করেছে সরকার। গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে গঠিত কমিটির সুপারিশ, আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা, জনমত গ্রহণ এবং ৩১টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারী সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জন্য প্রণীত বিদ্যুৎ বিভাগের এ কৌশলপত্র বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাতে সংসদ সচিবালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করা এবং কার্যকর চাহিদা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রণোদনা

কৌশলপত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, নেট মিটারিং, ওপেক্স মডেল, স্মার্ট গ্রিড, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস), সৌরচালিত সেচ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বায়ু বিদ্যুৎ, পানি বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং অবকাঠামো এবং ক্লিন কুকিং প্রযুক্তির সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থায়ন ও ফান্ড

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থায়ন সহজ করতে একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড গঠন, সহজশর্তে অর্থায়ন, ক্রেডিট গ্যারান্টি, কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার বিকাশ, আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, কর অবকাশ এবং স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ

কৌশলপত্রে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমির সুরক্ষা, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরিতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মনিটরিং ও বাস্তবায়ন

কৌশলপত্রের কার্যকর বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে একটি রিয়েল-টাইম অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় পলিসি কাউন্সিলও গঠন করা হবে।