টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদর উপজেলার লস্করপুরের কালিগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ দুটি স্থানে ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভাঙা স্থান দিয়ে দ্রুত বেগে পানি ঢুকে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত করে।
বাঁধ ভাঙনের সময় ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার সকালে রাধাপুর এবং রাতে কালিগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় লোকজন গবাদি পশুসহ মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার কুশিয়ারা ও অন্যান্য নদীতেও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে, যা নদী তীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিবৃতি
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত খোয়াই নদীর ২টি স্থান ভেঙেছে এবং আরও কয়েকটি স্থান ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আর ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদীগুলোতে পানি কমে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় লোকজনদের সাথে নিয়ে বস্তা ফেলে মাটি দিয়ে সংস্কার কাজ চলছে।
ত্রাণ ও জরুরি প্রস্তুতি
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাউল ও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজান ও দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২২৫ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করাঙ্গী, সুতাং ও সোনাই নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।



