জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির বার্তা: সোমবারের মধ্যে স্বাভাবিক হবে পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট কাটিয়ে উঠতে চলেছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে আগামীকাল সোমবার বিকেলের মধ্যে সারা দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং সরবরাহ উন্নতি
রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে এক বৈঠকের পর নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'আমি আশা করছি আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি থাকবে না। ইতিমধ্যে অনেক পাম্পে তেল পৌঁছে গেছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে।' গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে যানবাহন চালকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জ্বালানি তেলের ওপর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। সামনে ঈদুল ফিতর এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের চাপ বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে সরকার আজ থেকেই পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের ওপর আরোপিত রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের ট্যাঙ্কার পৌঁছানো
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত তেলের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার পৌঁছানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রেশনিং তুলে নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে গত ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
রেশনিং তুলে নেওয়ার ফলে এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করতে পারবে। এতে করে বাজারে তেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাজমুল হক আরও উল্লেখ করেন যে ইতিমধ্যে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে কোনো ধরনের সংকট থাকবে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সতর্কতা
এই উন্নতির পেছনে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের ট্যাঙ্কারগুলোর সময়মতো পৌঁছানো একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে যাতে এমন সংকট না হয় সেজন্য জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা হবে। তবে বর্তমানে পেট্রোল পাম্প মালিকরা আশাবাদী যে আগামীকালের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
গ্রাহকদের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর, বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের আগে যাতায়াতের চাপ মোকাবিলায়। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে সরবরাহ চেইনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
