জ্বালানি তেলের সরবরাহে সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ
জ্বালানি তেলের সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ

জ্বালানি তেলের সরবরাহে সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনন্দ্য ইসলাম অমিত দেশের সকল জেলা প্রশাসককে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার জ্বালানি খাতের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার পর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইরান-ইসরাইল সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে আগামী ঈদ যাত্রা এবং বোরো চাষ মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিতরণের উপর থেকে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রেশনিংসহ সকল সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং রবিবার থেকে চাহিদাভিত্তিকভাবে সকল বিতরণ কেন্দ্র থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের জাহাজ এসে পৌঁছেছে

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমদানিকৃত জ্বালানি তেল বহনকারী বেশ কয়েকটি জাহাজ ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এই জাহাজগুলোতে থাকা জ্বালানি তেল দেশের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আনন্দ্য ইসলাম অমিত জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনোযোগ দিতে বলেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ এবং কৃষকরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন।

কৃষি ও ঈদ যাত্রার চাহিদা বিবেচনায়

বর্তমান বোরো চাষ মৌসুমে কৃষকদের সেচ কাজের জন্য জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, আগামী ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যাত্রীদের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খাতেও জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চলমান অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। জেলা প্রশাসকদের তদারকি এবং চাহিদাভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।