জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার, রবিবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম
সরকার জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে। রবিবার থেকে সারাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দা ইসলাম অমিত রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন।
স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি
এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি করা হবে। নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আনিন্দা ইসলাম অমিত বলেন, "জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। রবিবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে।"
মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই সুযোগ নিয়ে কেউ জ্বালানি মজুত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "কেউ যদি জ্বালানি মজুত করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা
প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সরকার আগে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর মধ্যে জ্বালানি বিতরণে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা ছিল। তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় আমরা আগে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিলাম।"
চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজ
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বেশ কয়েকটি আমদানিকৃত তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এই জাহাজগুলো জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঈদ যাত্রা ও বোরো চাষের প্রয়োজন বিবেচনা
আসন্ন ঈদ যাত্রা এবং চলমান বোরো চাষ মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনা করে সরকার জ্বালানি রেশনিংসহ সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ঈদ যাত্রা এবং বোরো চাষের প্রয়োজন বিবেচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
যাত্রী ও কৃষকদের উদ্বেগ কমানোর আশা
এই পদক্ষেপের ফলে ঈদ যাত্রা এবং বোরো মৌসুমের শীর্ষ সেচ সময়ের আগে যাত্রী ও কৃষকদের উদ্বেগ কমানোর আশা করা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে যাত্রী ও কৃষকরা সুবিধা পাবেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মজুতদারি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
